বি.সরকার। পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি বিতর্কে জেলা নেতৃবৃন্দের পাল্টা-পাল্টি অবস্থানে ভাঙা-গড়া নিয়ে বিতর্ক ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। এ নিয়ে একে-অপরের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য ও বিবৃতি অব্যাহত রয়েছে। প্রথমে দুই সদস্য ও পরবর্তীতে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বিমান সাহা স্বাক্ষরিত একতরফাভাবে ২৫ সদস্যের উপজেলা আহবায়ক কমিটি প্রকাশের পর নতূন করে এ বিতর্কের জন্ম দেয়।
উপজেলা কমিটি ভেঙে জেলা সাধারণ সম্পাদকের একতরফাভাবে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনার বিরুদ্ধে পাইকগাছা থেকে জেলা কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতৃবৃন্দ মুখ খুলেছেন। ১৪ জানুয়ারি বুধবার কপিলমুনিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি চম্পক কুমার পাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাধন ভদ্র, সদস্য অলোক মজুমদার ও কৃষ্ণেন্দু দত্তসহ নেতৃবৃন্দ কেন্দ্র কমিটির হস্তক্ষেপ চেয়ে বিতর্কিত আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখান করেছেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রানকৃষ্ণ দাশ, পৌর কমিটির সভাপতি বাবু রাম মন্ডল, পৌর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার সরকারসহ নেতৃবৃন্দের মধ্যে সুনিল কুমার মন্ডল, বি,সরকার, স্নেহেন্দু বিকাশ, প্রকাশ ঘোষ বিধান, রামপদ পাল, সঞ্জয় কুমারসহ অনেকে।
সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য অলোক মজুমদার ও কৃষ্ণেন্দু দত্ত বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গনভোটের পুর্ব মুহূর্তে উপজেলার মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি আহবায়ক কমিটি গঠন সমর্থন করিনা। এতে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ সৃষ্টি হবে।
জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাধন ভদ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পাইকগাছার ৫/৭ জন জেলা নেতৃবৃন্দের মতামত না নিয়েই জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক ভাবে কমিটি ভাঙা-গড়া করেনি। তিনি সম্পূর্ণ গাদ্দারি করে অন্যায়ভাবে গঠনতন্ত্র-কে পাশকাঁটিয়ে এটা করেছেন তাই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। তিনি পূরনো কমিটি বহালের জন্য পুনঃব্যক্ত করেন।
এ নিয়ে জেলা সংগঠনের সহ-সভাপতি চম্পক কুমার পাল জানান, খুলনায় গীতাপাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে কোন প্রস্তুতি ছাড়া জেলার সেক্রেটারি একক ভাবে পাইকগাছার কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করেন। কাদের নিয়ে কমিটি হবে তিনি একবারও আমাদের সাথে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেনি।
উল্লেখ্যে, গত ২৬ ডিসেম্বর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বিমান সাহা খুলনাস্থ শ্রীশ্রী শীতলাবাড়ী পূজা মন্দিরে গীতাপাঠ অনুষ্ঠান পরবর্তীতে পাইকগাছা উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা দিলে বিতর্ক ও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্র-পত্রিকায়ও স্থান পেয়েছে। জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ দত্ত দায়িত্ব নিয়ে বলেন, কেন্দ্র কমিটি জাতিয় নির্বাচনের পূর্বে উপজেলা কমিটি ভাঙা-গড়া কোনটাই অনুমতি দেবেনা।